Spread the love

স্বাস্থ্য যখন অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত ,তখন আমাদের সব স্বাস্থ্যের প্রতিই যত্নবান এবং শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরী প্রজনস্বাস্থ্য কে সুরক্ষিত রাখতে যেমনি প্রজনন অংগপ্রত্যংগ সম্পর্কে জানতে হবে ,যত্ন নিতে হবে, ঠিক তেমনি পরিপূর্ন এবং শ্রদ্ধাশীল যৌন  সম্পর্ক প্রজনন স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। আর আমাদের প্রজনন স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান লাভ করতে হবে , অপরকে জানাতে হব এবং এসব বিষয়ে কেউ যেনো লজ্জা না পায় ,বরং শ্রদ্ধাশীল হয় ,সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন এবং দায়িত্ত্বশীল হতে হবে।

নিজের শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন এবং যৌনতা সম্পর্কিত তথ্য সন্ধান, গ্রহণ, এবং প্রদান সহ আরো যেসব বিষয় নারী প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সেবায়  সহায়ক ভূমিকা পালন করে ,তা হলো :

) জরায়ুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা :

  • যোনি (vagina) কে বার্থ ক্যানাল (Birth Canal) বলা হয়ে থাকে  যা জরায়ুকে  একজন মহিলার শরীরের বাইরে অংশের সাথে  সংযোগ স্থাপনে  সহায়তা   করে।  জরায়ু স্ত্রী প্রজনন তন্ত্রের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ।জরায়ু একটি হরমোন প্রতিক্রিয়াশীল অঙ্গ।  তাই মাসিকের সময় এবং এছাড়াও অন্যান্য সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, যাতে করে কোনো জীবানু/ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন না হয়
  • যাঁদের জরায়ুতে ক্ষত আছে, তাঁদের যোনি পথে জন্মদানের সময় ঝুঁকি মোটামুটি প্রতি ১২,০০০ জনে জন। শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় %উন্নয়নশীল দেশের মানুষ আরও বেশি আক্রান্ত হন এবং সেক্ষেত্রে ফলাফল খারাপ।আর তাই পিরিয়ডের সময় এবং  এমনকি অন্যান্য সাধারন সময়েও  মেয়েদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিত ,যাতে করে জরায়ুতে কোনো ইনফেকশন না হয়, জরায়ু এবং এর সাথের অন্যান্য অংগপ্রত্যংগ  সুস্থ্য থাকে। একজন নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখারা প্রথম ধাপই হতে পারে জরায়ুর সুস্থতা নিশ্চিত করা।  

) কিশোরীদের উপযোগী প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা  এবং  পরিবার পরিকল্পনা

আমাদের প্রচলিত প্রজনন  স্বাস্থ্য সেবাসম্মুহ শুধুমাত্র বিবাহিত নারীপুরুষের জন্য উপযোগী   তাই অবিবাহিতদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের আলাদা স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজন ,যাতে করে অনিরাপদ গর্ভপাত , মৃত্যু হাড় এবং মৃত্যু ঝুকি রোধ করা সম্ভব হয়   পরিবার পরিকল্পনা হোক সবার জন্য উন্মুক্ত ,এটি ব্যাতিত প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভবপর নয়  কিশোর কিশোরীরা হয়তো পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে বা জানতে অনাগ্রহী হতে পারে, অস্বস্থিতে পড়তে পারে ,তাই কিশোর কিশোরীদের উপযোগী প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী

) বন্ধ্যাত্ত্ব :

  • নারী এবং পুরূষ উভয়ের সন্তান জন্মদানে বাধার  বৈজ্ঞানসম্মত কারন সম্পর্কে  সবাইকে  করে  বন্ধাত্ত্ব সম্পর্কিত সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরন আমাদের অগ্রসর হতে হবে এবং বন্ধাত্ত্ব ব্যাবস্থাপনার মেডিক্যাল পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে
  • সর্বোপুরি ,নারী অথবা পুরুষ উভয়েরই শারীরিক সমস্যার কারনে সন্তান জন্মদানে বিপত্তি ঘটতে পারে ।অনেক বৈজ্জানিক গবেষনায় দেখা গেছে ,কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীপুরুষ দম্পতির কোনো শারীরীক সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও অনেক দম্পতি সন্তান জন্মদানে ব্যার্থ হয়ে থাকেন।তাই আসুন ,নিজে জানি ,অপরকে জানাই এবং  পরিশেষে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি যেখানে কোন নারী অথবা পুরুষকে সন্তান জন্ম দানে ব্যার্থতার কারনে মানষিক এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকার না হতে হয়

) মাসিক / অনিয়মিত মাসিক /হরমোন

  • মেয়েদের প্রতিমাসে মাসিকের কারনে আঠাস দিনের একটি চক্রের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ,যার ফলে অনেক হরমোন তৈরী এবং হরমোন জনিত শারীরিক এবং মানষিক পরিবর্তন আসে আর এই হরমোন এর কারনেই অনেকের  মাসিক অনিয়মিত হতে পারে
  • নিয়মিত অথবা অনিয়মিত ,মাসিক যেরকমের হোক না কেনো , একটি মেয়েকে যেমন মাসিক নিয়ে লজ্জ্বা না পাওয়ার কারন জানাতে হবে যাতে করে সে আত্নবিশ্বাসীর সাথে এগিয়ে যেতে পারে  ,ঠিক তেমনি একটি ছেলেকেও বোঝাতে হবে ,মাসিক বেড়ে উঠার প্রক্রিয়ায় খুব  স্বাভাবিক একটি বিজ্ঞানসম্মত ধাপ, বরং এটা নিয়ে হাসি ঠাট্টা না করে   ঠিক এই সময়টাতে  মেয়েদেরকে শারীরিক এবং মানষিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য  একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আর পরিবারের ছোটদের কে এসব ব্যাপারে সুন্দর করে বুঝিয়ে বললে তারা এটা নিয়ে ভুল ধারনা পোষন করে অহেতুক কৌতুহলী হবে না  এবং ইন্টারনেট অথবা  বন্ধুদের কাছ থেকে ভুল তথ্য  জানবেনা না।

)অনিরাপদ গর্ভপাত :

  • অবিবাহিত বয়স্কদের একটি বড় দল আছেন বাংলাদেশে, যারা যৌন সক্রিয় কিন্তু তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য অসংরক্ষিত আছে সঠিক বিজ্ঞানম্মত তথ্যের অভাবে, সামাজিক কুসংস্কার এবং বাধার কারনে।
  • এই যৌন সক্রিয় অবিবাহিত গ্রুপের জন্য দরকার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা,নিরাপদ গর্ভপাতের অধিকার ,পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক জ্ঞান , বন্ধ্যাত্ব ব্যাবস্থাপনা এবং প্রজননঅংগপ্রত্যংগ বিষয়ক সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা।

) বয়সন্ধিকাল এবং মানষিক অবস্থার পরিবর্তন :

  • কিশোর কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে  পর্যাপ্ত এবং পরিপূর্ন জ্ঞ্বান দিতে হলে তাদেরকে সবার প্রথমেই বয়সঃন্ধিকালের সব শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনের সাথে বৈজ্ঞ্বানস্মমত উপায়ে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এতে করে তারা নিজেদের ব্যাপারে জানতে পারবে নিজেদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে সঠিক ধারনা লাভ করবে বয়সঃন্ধিকালে কিশোরকিশোরীদের মধ্যে যত রকম শারীরিক পরিবর্তন আসে এবং সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় যেসব মানষিক পরিবর্তন আসে ,সেসব ব্যাপারে তারা যখন জানতে পারবে ,ঠিক তখনি তারা নিজেদের পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহন করতে পারবে এবং সব দ্বিধা ভুলে সামনের দিকে  এগিয়ে যেতে পারবে।
  • তাই কিশোরকিশোরীদের উপযোগী প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার আগে সবচেয়ে জরুরী হলো তাদেরকে বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে সঠিক ধারনা দেয়া। পরিবার ,শিক্ষক এবং সর্বপূরী আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় সিলেবাসে কিশোরকিশোরীদের বোঝার উপযোগী প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় নতুন ভাবে নিয়ে আসতে হবে আর প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল করে তোলার মাধ্যমেই আমরা  তাদেরকে তাদের পরবর্তী জীবনের  পরিবার পরিকল্পনা  সম্পর্কে অবহিত করতে পারি

৭) শারীরিক পরিবর্তন :

  • একটা মেয়ে একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রথম যে শারীরিক পরিবর্তন চোখে পড়ে এবং অনুভব করা যায় ,সেটা হলো ব্রেস্ট এর সাইজ এবং নিপল  এর পরিবর্তন 
  • পেলভিক এড়িয়াতে  একটু ওজন লাভ  করে থাকে ,তারপর হিপ একটু ভারী হতে পারে এই পুরো স্বাভাবিক  প্রক্রিয়া অতোপ্রতোভাবে বয়ঃসন্ধিতে একটা মানুষকে একটা মেয়েতে পরিনত করে।
  • আরও একটি গুরুত্ত্বপুর্ন শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় আর সেটা শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোম গজাতে থাকে বিষেশত বগলে ,পিউবিক এড়িয়াতে,পায়ে বেশী লোম গজাতে দেখা যায় ।বয়স বাড়ার সাথে সাথে লোমের ঘনত্ত্ব আরও বাড়তে থাকে। 
  • বয়ঃসন্ধিতে একটা মেয়ের  ভেজাইনা তে অনেক সময়  ফ্লুইড এর সৃষ্ঠি হয় ,মাসিক শুরু হয়, মাসিক কখনো অনিয়মিত হতে পারে ,কখনোবা ব্যাথা থাকতে পারে তল পেটে 
  • বয়ঃসন্ধি থেকেই একটা মেয়ের রিপ্রডাক্টিভ সিস্টেম (প্রজননন স্বাস্থ্য ) এর অনেক পরিবর্তন আসতে শুরু করে ।অনেকে অংগপ্রত্যংগ ধীরে ধীরে পরিনত হতে থাকে। ফেলোপিয়ান টিউব ,ইঊটেরাস ,ভেজাইনা ধীরে ধীরে তার কার্যক্রম শুরু করে, হরমোন তৈরী হতে থাকে ,আর এর সাথে অনেক শারীরিক এবং মানষিক পরিবর্ত আসতে থাকে এই যেমনঅভারিতে ডিম্বানু/এগ তৈরী হয় প্রতি মাসে ,আর এই অভারি হলো ফিম্যাল রিপ্রডাক্টিভ সিস্টেমের প্রধান অংগ।অভারিতে তৈরী হওয়া ডিম্বানই শুক্রানুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরী করে যা পরবর্তীতে একটা পরিনত সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম
  • সর্বোপুরী , বয়সন্ধিকালে একটি মেয়ের ব্রন, অভারিয়ান সিস্ট এবং  ওজন বেড়ে যেতে পারে বা ওজন নিয়ন্ত্রন করা একটু কস্টসাধ্য হতে পারে।

) সুষম খাদ্যাভাস :  

বয়সন্ধিকাল থেকে  একটি পরিপূর্ন সুষম  খাদ্যতালিকা গ্রহন করলে তা প্রজনন স্বাথ্যের উর্বরতা , বন্ধাত্ত্ব ব্যাবস্থাপনা এবং সর্বোপুরি হরমোন এর সঠিক ব্যাবস্থাপনায় সহায়তা করে ।

)  সঠিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহন  যৌন  সংক্রামক রোগের ঝুকি কমাতে এবং  প্রতিরোধে সাহায্য করে

আর তাই নারীদের  প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা এবং সুরক্ষায়যৌন অক্ষমতা , বন্ধ্যাত্ব  এবং  যৌন সংক্রামক রোগ”  প্রতিরোধের বাইরেও তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাবাস ,নিজের শরীর  এবং সম্পর্কের প্রতি  দায়িত্বশীল  এবং শ্রদ্ধাশীল আচরণ করার লক্ষ্যে অনুপ্রানিত করতে হবে বলা বাহুল্য, যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার একটি  বুদ্ধিমান ,ন্যায়পরায়ণ  সহনশীল ,শ্রদ্ধাশীল , অহিংস্র বিশ্বের বিকাশ ঘটাতে আমাদের আরো  এক ধাপ এগিয়ে  নিতে সক্ষম