Spread the love

পুরুষ প্রজনন তন্ত্রের দুটি অংশ থাকে । বাহ্যিক এবং অভন্তরীন গঠন তন্ত্র।

Scientific medical of male reproductive system Free Vector

চলো জেনে নিই পুরুষ প্রজননতন্ত্রের বাহ্যিক গঠনতন্ত্র সম্পর্কে।

১) পিনেস –

পূরুষ প্রজনন তন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ন অংশ হলো পিনেস ,যার মাধ্যমে  শুক্রাণু (পুরুষ প্রজনন কোষ) উৎপন্ন হয় । পিনেস কে দুইভাবে আলোচনা করা যায় ,সারকামসাইজড এবং আন-সারকামসাইজড পিনেস । এর মানে হলো ,সার্জারীর মাধ্য মে পিনেসের সম্মুখভাগের চামড়াকে কেটে ফেলে দেয় ।

  • সারকামসাইজড পিনেস (Circumcised penis)- এই পিনেসের মাথার শেষের একটি অংশ সার্জারির মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়
  • আন-সারকামসাইজড পিনেস (Uncircumcised penis) -সার্জারী করা হয় না ।

মুসলিম ধর্মে একে সুন্নতে খাতনা বা  মোসলমানী  বলে। আর উন্নর হাস্পাতালগুলোতে এখন ধর্মীয় কারন ছাড়াও পরিবারের সম্মতিতে বাচ্চা জন্ম গ্রহনের সাথে সাথে এই সার্জারী করে থাকে ,কারন এর অনেক উপকারীতা আছে।

The American Academy of Pediatrics (AAP) এর গবেষনা অনুযায়ী সারকামসাইজড পিনেস এর উপকারীতা এবং অপকারীতা দুটুই আছে ।

এবার আসি উপকারিতার কথায় ।

  • সার্জারির মাধ্যেমে যখন পিনেসের চামড়া (foreskin) কেটে ফেলা দেয়া হয় ,তখন এটি ইনফেকশনের ( urinary tract infections ) এর রিস্ক কমায় ।
  • আবার কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যৌন সংক্রামক রোগের (sexually transmitted diseases) এর ঝুকি কমায় ।

 

  • ক্যান্সারের ঝুকি কমায় (উদাহরন: ছেলেদের পিনেসের ক্যান্সার (penile cancer)এবং মেয়েদের সার্ভিকাল ক্যান্সারের ( cervical cancer )  এর ঝুকি  কমায়।

 

  • অনেক সময় দেখা যায়, এই সার্জারি (সার্জিক্যাল রিমুভাল) ইনফেকশন হতে রক্ষা করে । উদাহরন : Balanitis, যার ফলে অনেক সময় পিনেসের মধ্যে অস্বস্থি লাগতে পারে এবং অনেক সময় চামড়া উঠতে থাকে অস্বাভাবিক ভাবে ।

 

  • অনেক ধরনের পিনেস ডিসঅর্ডার এর কারনে মানুষের বিবাহিত জীবনে অনেক সমস্যার সৃস্টি হয়, আর এই ডিসঅর্ডার অনেক সময় পিনেসের অগ্রভাগের চামড়ার ( foreskin) কারনে হয়ে থাকে । তাই এই  ফরস্কিন যখন সার্জারীর মাধ্যমে কেটে ফেলে দেয়া হয় ,তখন পিনেসের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

আর অপকারীতা গুলো হলো :

  • অনেক ক্ষেত্রেই সার্জারীর মাধ্যমে চামড়া ( foreskin) কেটে ফেলার কারনে ,ব্যাথা হয় ,ফুলে যায় ,প্রস্রাবের (ইউরিন) সাথে ব্লাড বের হয়।
  • অস্বাভাবিক বীর্যপাত হতে পারে।
  • চুলকানী ,ফুলে যাওয়া , রক্তের দলা পাকা ,এসব হতে পারে পিনেসের মধ্যে
  • সিমেনের মধ্যে ব্লাড থাকতে পারে
  • ইরেকশন হলে চার ঘন্টা বা এর চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে ।
  • সার্জারী না করলে লিনেসের অগ্রভাগের চামড়া খুব শক্ত হয়ে যা শারীরিক সম্পর্কে সমস্যা তৈরী করতে পারে ।

আর এই পিনেস অনেক গুরুত্ত্বপূর্ন উপাদান নির্গত করে। আর সেটাকে সাইন্টিফিক্যালি সিমেন বলে, আর এই সিমেনের মধ্যে শুক্রানু বা  স্পার্ম থাকে । পিনেস যখন ইরেক্টেড থাকে অথবা সাইজে বড় হয়ে শক্ত হয়ে যায় , তখন ইঊরেথ্রা থেকে প্রস্রাব (urine) এর প্রবাহ (flow) বন্ধ হয়ে যায় ,আর পিনেস তখন শুধুমাত্র সিমেন নির্গত করে ,ইউরিন নির্গত  করে না ।

অনেকবার বলেছি, শুক্রাণু হলো পুরুষ প্রজনতন্ত্র এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের অনেক বেশি গুরুত্ত্বপূর্ন অংশ। একজন নারী এবং পুরুষের যৌন মিলনের সময় একজন পুরুষের শুক্রানু,নারীর ডিম্বানুকে নিষিক্ত করে ডিম্বানুর সাথে মিলিত হয়  ।আর এর ফলে জাইগোট সৃষ্ঠি হয় এবং পরবর্তীতে এই জাইগোট থেকে  ভ্রূন তৈরী হয়। আর ভ্রূন থেকেই একটি পরিনত সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে পারে।

বীর্য, যার মধ্যে শুক্রাণু (প্রজনন কোষ) থাকে, পুরুষাঙ্গের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে লোকটি যৌন উত্তেজনা (প্রচণ্ড উত্তেজনা) পৌঁছানোর পরে বহিষ্কার (বীর্যপাত) হয়। লিঙ্গটি খাড়া হয়ে গেলে, মূত্রনালী থেকে প্রস্রাবের প্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে যায়, কেবলমাত্র বীর্য উত্তেজনার সময় বীর্যপাত হয়। নোট

 

২) স্ক্রটামঃ

স্ক্রটাম পিনেসের নিচে এবং পেছনের দিকে থাকে ,যা দেখতে একটি থলির মত। এই স্ক্রটামের ভিতরে টেস্টিকল (testicles অথবা testes) থাকে ,এছাড়াও স্নায়ু/nerves এবং রক্তনালী /blood vessels থাকে। স্ক্রটামকে সাইন্টিফিক্যালি টেস্টিসদের (  testes)জলবায়ু নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র( climate control system) বলা হয়। স্বাভাবিক উপায়ে স্পার্ম বা শুক্রানু তৈরীর জন্য টেস্টিসদের( testes) এর তাপমাত্রা আমাদের শরীরের সাধারন তাপমাত্রার চেয়ে ঠাণ্ডা বা কম শহতে হয় ।

৩) টেস্টিকলস(Testicles/Testes):

পুরুষ প্রজনন তন্ত্রে  (Male reproductive system )সাধারনত দুটি টেস্টি (Teste) থাকে।  এই দুটো টেস্ট এর প্রধান কাজ হলো টেস্টোস্টেরন (testosterone) নামক প্রাথমিক লৈঙ্গিক হরমোন (  primary male sex hormone ) এবং স্পার্ম তৈরী করা। টেস্টিস এর মধ্যে সেমিনিফেরাস টিউবিউলস (seminiferous tubules )থাকে ।আর এই টিউবগুলিও স্পার্ম তৈরী করে।

৪)অণ্ডকোষ (টেস্টেস): এগুলি বৃহৎ জলপাই এর আকার এর মত দেখতে।

বেশিরভাগ পুরুষের দুটি টেস্ট থাকে। টেস্টোস্টেরন (প্রাথমিক পুরুষ সেক্স হরমোন ) তৈরির জন্য এবং শুক্রাণু তৈরির জন্য টেস্টগুলি দায়ী। টেস্টের মধ্যেই কোয়েলেড টিউবগুলি থাকে যাকে বলা হয় সেমেনিফরাস টিউবুলস। এই টিউবগুলি শুক্রাণু কোষ তৈরির জন্য দায়ী।

The male reproductive system. Premium Vector

 

এবার চলো জেনে নিই পুরুষ প্রজননতন্ত্রের অভ্যন্তরীন গঠনতন্ত্র সম্পর্কে।

আর এগুলো হলোঃ

১) এপিডিডামিস (Epididymis)-

এটি একটি লম্বা টিউব যা টেস্টিকল এর পেছনে থাকে। এটি টেস্টে উৎপাদিত স্পার্ম সেল/ শুক্রাণু কোষগুলি পরিবহন এবং সঞ্চয় করে। টেস্টিস এ যে স্পার্ম গুলো তৈরী হয়, সেগুলো অপরিনত থাকে। আর এপিডিডামিস এই স্পার্মগুলোকে পরিনত করে এবং ফার্টিলাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত করে তোলে।

২)ভাস ডিফারেন্স (Vas deferens) –

আমরা জানি যে ইজাকুলেশন একটি প্রক্রিয়া  যেখানে পিনেসের সাইজ বড় হয়ে যায় বা শক্ত হয়ে যায় এবং   সিমেন নামক তরল বের হয়ে আসে। আর এই ভাস ডিফারেন্স একটি লম্বা টিউব  যা  পরিপক্ক স্পার্মগুলোকে ইঊরেথ্রাতে  (মূত্রনালীতে প্রবাহিত করে)

ইঊরেথ্রা হলো একটি টিউব যা ইউরিন এবং স্পার্মকে বহন করে,বাইরে নিয়ে আসে এবং ইজাকুলেশন এ সাহায্য করে।

৩) Ejaculatory ducts

৪) Urethra

৫) সেমিনাল ভেসিকেল(Seminal vesicles)-

সেমিনাল ভেসিকেলগুলি প্রধানত  একটি চিনি ভিত্তিক (sugar-rich fluid -fructose)  তৈরী করে যা শুক্রাণু /sperm কে  শক্তির  উৎস প্রদান করে।

Scientific medical of male reproductive system Free Vector

৬) প্রোস্টেট গ্রন্থিঃ  (Prostate gland)-

প্রোস্টেট গ্রন্থি বীর্যপাতের ( ejaculation)  জন্য অতিরিক্ত তরল প্রদান করে ।

 

৭) Bulbourethral glands-

এটি একটি স্বচ্ছ এবং পিচ্ছিল ( clear and slippery fluid)  নির্গত করে করে ,যা ইঊরেথ্রা তে  লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে।

 

সামগ্রিকভাবে যদি পুরুষ প্রজনতন্ত্রের কথা চিন্তা করা হয় ,তাহলে বয়সন্ধিকাল থেকেই শুক্রানুর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় পরিমিত পরিমানে ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর সুষম খাদ্যাভাস খুবই জরুরী।কেননা  শুক্রাণুতে বিদ্যমান ক্রোমোসোমগুলো জীবের বৈশিষ্ট্যের বাহক জিন বহন করে যা জীব থেকে তার বংশধরের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।  আর এ কারনেই পুরুষ প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে স্পার্ম উৎপাদন কালীন সময় ( বয়ঃসন্ধিকাল) এবং এর পরবর্তী সময়ে সচেতন থাকা আবশ্যক । আর যেহেতু বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই শুক্রানু উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, এ সময় থেকেই একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিপূর্ন খাদ্য তালিকা তৈরী করে সে অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে। কারন  খাদ্যতালিকার সাথে প্রজনন স্বাস্থ্যের উর্বরতাও (fertility) অনেকটা নির্ভর করে।